তালিমুন্নেছা কেন্দ্রে দাখিল পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ: টাকার বিনিময়ে নকলের সুযোগ, গার্ড পরিবর্তন না করার অভিযোগ



*রিপোর্ট:*

‎পার্বতীপুরের তালিমুন্নেছা পরীক্ষা কেন্দ্রে চলতি বছরের দাখিল এসএসসি পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি অংশের অভিযোগ, কেন্দ্রটিতে টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের নকলের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।


‎*অভিযোগের বিস্তারিত:*

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত কিছু শিক্ষক টাকার বিনিময়ে নকল সরবরাহের সুযোগ করে দিচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি কক্ষে দুইজন করে গার্ড থাকার কথা এবং প্রতিদিন গার্ড পরিবর্তনের নিয়ম থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, তালিমুন্নেছা কেন্দ্রে একই গার্ড প্রতিদিন টানা দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এই গার্ডদের মাধ্যমেই পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন প্রবেশ করানো হচ্ছে এবং নকল সরবরাহ করা হচ্ছে।


‎একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এভাবে পরীক্ষা হলে মেধার মূল্যায়ন হবে না। যারা কষ্ট করে পড়াশোনা করছে তারা বঞ্চিত হবে, আর যারা টাকা দিয়ে নকল করছে তারাই ভালো ফল করবে। এটা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক।"


‎*সিসিটিভি ও ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:*

‎অভিযোগকারীরা আরও জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রতিটি হলে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা থাকলেও এসব অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে একজন করে সেন্টার ম্যাজিস্ট্রেট থাকার কথা। কিন্তু এত অনিয়মের পরও ম্যাজিস্ট্রেটের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, "সিসিটিভি থাকার পরও এবং ম্যাজিস্ট্রেট থাকার পরও এসব ঘটনা কিভাবে ঘটছে? এগুলো কি তাদের চোখে পড়ে না?"


‎*শিক্ষা বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ:*

‎স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং উপজেলা প্রশাসনের উচিত তালিমুন্নেছা কেন্দ্রটি সরেজমিনে তদন্ত করা। অভিযোগ সত্য হলে দায়ী শিক্ষক ও গার্ডদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কেন্দ্র বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।


‎*কেন্দ্র সচিবের বক্তব্য:*

‎এ বিষয়ে তালিমুন্নেছা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, "অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষায় কোনো প্রকার অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।"


‎*সামাজিক প্রতিক্রিয়া:*

‎এই অভিযোগ সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, "প্রশাসনের উচিত কঠোর নজরদারি বাড়ানো। না হলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"


‎শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। পরীক্ষায় এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে জাতির ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।