*পুঁজিবাজারে রক্তক্ষরণ: এক সপ্তাহেই গায়েব 5,124 কোটি টাকা, বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ*



*ঢাকা, 9 মে 2026:* দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইতে গত সপ্তাহজুড়ে চলেছে শুধুই হতাশা। টানা পাঁচ কার্যদিবসের চার দিনই সূচক ছিল নিম্নমুখী। বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও থেকে এক সপ্তাহেই উধাও হয়ে গেছে 5 হাজার 124 কোটি টাকারও বেশি বাজার মূলধন। বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় প্রধান মূল্যসূচকে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।

‎বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট এবং বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন ছিল 6 লাখ 85 হাজার 118 কোটি টাকা। সপ্তাহের শেষ দিনে এসে তা কমে দাঁড়িয়েছে 6 লাখ 79 হাজার 994 কোটি টাকায়। অর্থাৎ পাঁচ দিনের ব্যবধানে মূলধন কমেছে 5,124 কোটি টাকা।

‎লেনদেনের চিত্রও ছিল বেশ হতাশাজনক। ডিএসইতে মোট 392টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র 141টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের। অন্যদিকে দর হারিয়েছে 222টি কোম্পানি। আর 29টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম ছিল অপরিবর্তিত। অর্থাৎ বাজারের প্রায় 57 শতাংশ শেয়ারের দাম কমেছে।

‎সূচকের হিসাবে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে 52 দশমিক 77 পয়েন্ট বা 1 শতাংশ কমে গেছে। এর আগের সপ্তাহেও এই সূচক কিছুটা নিম্নমুখী ছিল। পাশাপাশি বাছাই করা 30টি ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-30 সূচক কমেছে 15 দশমিক 40 পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক 76 শতাংশ।

‎তবে এই টানা পতনের বাজারে কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলো। ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক গত সপ্তাহে 5 দশমিক 37 পয়েন্ট বেড়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ইসলামী ধারার কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা বেড়েছে।

‎সূচকের পতনের সঙ্গে সঙ্গে লেনদেনের গতিও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে প্রতিদিন গড়ে 830 কোটি 24 লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা আগের সপ্তাহের চেয়ে 113 কোটি 15 লাখ টাকা বা 11 দশমিক 99 শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল 943 কোটি 39 লাখ টাকা।

‎লেনদেনের শীর্ষে ছিল ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড। কোম্পানিটির প্রতিদিন গড়ে 31 কোটি 28 লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা মোট লেনদেনের 3 দশমিক 77 শতাংশ। লেনদেনের তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে ছিল যথাক্রমে এনসিসি ব্যাংক এবং লাভেলো আইসক্রিম।

‎এছাড়া বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো মুন্নু সিরামিক, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সিটি ব্যাংক, মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, জিকিউ বলপেন এবং রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স।

‎বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির চাপে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে বাজারে বিক্রির চাপ বেশি। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে নীতি-সহায়তা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো জরুরি।

‎*শেষ কথা:* টানা দরপতনে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। বাজার কবে ঘুরে দাঁড়াবে তা নিয়ে সবার মধ্যে উৎকণ্ঠা কাজ করছে।