*পার্বতীপুর নিউজ আপডেট: একটু অসচেতনতা = সারাজীবনের কান্না*




রাস্তা। মানুষের চলার পথ, স্বপ্ন নিয়ে ছুটে চলার পথ, অ্যাম্বুলেন্সে করে জীবন বাঁচানোর পথ। কিন্তু এই রাস্তাই যখন মৃত্যুফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়, তখন দায় কার? 


আজ সোমবার, ১২ মে ২০২৬। পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘটে গেল আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। কারণটা শুনলে আপনার রক্ত গরম হয়ে যাবে। রাস্তার অর্ধেক জুড়ে শুকানো হচ্ছে ভুট্টা। সেই ভুট্টার উপর দিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়লেন এক মোটরসাইকেল আরোহী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যুবকের নাম রাকিব, বয়স ২৮। তিনি পার্বতীপুর বাজারে যাচ্ছিলেন। হেলমেট থাকার কারণে মাথায় গুরুতর আঘাত পাননি, তবে হাত ও পা ভেঙে গেছে। তাকে রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।


ডাক্তার বলেছেন, "হেলমেট না থাকলে স্পট ডেড। কপাল ভালো, তাই প্রাণে বেঁচে গেছেন।" কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই দুর্ঘটনার দায় কে নেবে?


*রাস্তা কারো বাপের খামার না*


পার্বতীপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। ধান কাটার মৌসুমে রাস্তার দুই পাশ তো বটেই, মাঝখানের অংশও দখল করে ধান, গম, ভুট্টা শুকাতে দেন কৃষকরা। গাড়ির চাকা লাগলে দানা তাড়াতাড়ি মাড়াই হয়, এই যুক্তিতে তারা মহাসড়ককেই বেছে নেন। ফলে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা সবাইকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আঁকাবাঁকা হয়ে চলতে হয়। রাতের বেলা এই বিপদ আরও ভয়াবহ। রাস্তায় ছড়ানো ফসল দেখা যায় না, ফলে দুর্ঘটনা ঘটে বেশি।


গত এক মাসেই শুধু পার্বতীপুর উপজেলায় রাস্তায় ফসল শুকানোর কারণে ৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২ জন মারা গেছেন, বাকিরা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের পরিবারের কান্না কি ওই ভুট্টার দামের চেয়ে কম?


*আইন আছে, প্রয়োগ নাই*


সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ৮৯ ধারা অনুযায়ী, মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এর জন্য ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা ১ মাসের জেল হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে পার্বতীপুরে এই আইনের কোনো প্রয়োগ নেই। ফলে দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে কিছু অসচেতন মানুষ।


স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রশাসন কি ঘুমিয়ে আছে? ইউএনও অফিস, পৌরসভা, হাইওয়ে পুলিশ সবার চোখের সামনেই এই ঘটনা ঘটছে। অথচ কাউকে আজ পর্যন্ত জরিমানা করতে দেখা যায়নি।


*আমাদের ৩ দফা দাবি*


১. *স্পট জরিমানা চালু করুন:* রাস্তায় ফসল শুকানো দেখা মাত্রই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ৫ হাজার টাকা জরিমানা করতে হবে। ২-৩ জনকে জরিমানা করলেই বাকিরা সোজা হয়ে যাবে।


২. *মাইকিং করে সচেতনতা:* প্রতিটি ইউনিয়নে মাইকিং করে কৃষকদের সতর্ক করতে হবে। বোঝাতে হবে, রাস্তা বন্ধ করলে তাদেরই ছেলে-মেয়ে স্কুলে যেতে পারবে না, রোগী হাসপাতালে যেতে পারবে না।


৩. *বিকল্প জায়গা নির্ধারণ:* ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা খাস জমি বা স্কুল-কলেজের মাঠগুলোতে সাময়িকভাবে ফসল শুকানোর ব্যবস্থা করে দিতে পারে। কৃষক বাঁচবে, মানুষও বাঁচবে।


*শেষ কথা*


আজ রাকিব বেঁচে গেছে। কাল আমি-আপনি নাও বাঁচতে পারি। আপনার ১০ মিনিটের সুবিধার জন্য কারো মায়ের কোল খালি করবেন না। ভুট্টার দাম ২ হাজার টাকা মণ। আর একটা মানুষের জীবনের দাম? সেটা অমূল্য।


এই নিউজটা শেয়ার করে প্রশাসনের নজরে আনুন। কমেন্টে জানান, আপনার এলাকার রাস্তার অবস্থা কী। প্রতিবাদ না করলে কাল আপনার ভাই-ই হবে পরের শিকার।


একটু সচেতনতা, বাঁচাতে পারে হাজারো প্রাণ।


*- পার্বতীপুর নিউজ টিম*  

*#রাস্তা_বাঁচাও_জীবন_বাঁচাও #পার্বতীপুর_নিউজ #দিনাজপুর #নিরাপদ_সড়ক_চাই*


---


*শব্দ সংখ্যা: ৫০৮* 


*ভাই এইটা পোস্ট দেন। সাথে এক্সিডেন্টের ব্লার ছবি বা ভুট্টা শুকানোর ছবি দেন। রিচ আকাশে উঠবে* ✊