*সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৯, আহত আরও ১৫, শোকে স্তব্ধ এলাকাবাসী*
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় গতকাল রাতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন, যাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। রাতভর উদ্ধার কাজ চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
*কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা*
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের দলইরগাঁও এলাকায় রাত সাড়ে ১টার দিকে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ এতটাই তীব্র ছিল যে বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বাসটি ঢাকা থেকে সিলেট ফিরছিল।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনে। রাতেই ৭ জন ঘটনাস্থলে মারা যান। বাকি দুজন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। নিহতদের মধ্যে ৩ জন নারী ও ২ জন শিশু রয়েছেন।
*আহতদের অবস্থা সংকটাপন্ন*
ওসমানী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, “আহতদের বেশিরভাগের মাথা, বুক ও পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। ৫ জনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। রক্তের প্রয়োজন হওয়ায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো এগিয়ে এসেছে।”
আহতদের মধ্যে অনেকেই এখনো শনাক্ত হননি। পুলিশ নিহত ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে।
*চালকের বেপরোয়া গতিই কারণ বলে ধারণা*
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, বাসচালক অতিরিক্ত গতি ও ঘুম ঘুম চোখে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। বাঁক ঘোরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। বাসটির ফিটনেস ও চালকের লাইসেন্স যাচাই করা হচ্ছে। ট্রাকচালক পলাতক রয়েছেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি হিল্লোল রায় বলেন, “দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন গাড়ি আর রাতের বেলায় চালকদের অবহেলা—এই তিনটি বিষয়ই মূলত দায়ী। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।”
*শোকে স্তব্ধ এলাকা, ক্ষতিপূরণের দাবি*
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কোম্পানীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের স্বজনরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেক পরিবারই তাদের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনা। রাস্তা সরু, আলো নেই, আর রাতে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো বেপরোয়া চলে। “প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, আরও প্রাণ যাবে,” বলেন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম।
নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা ও আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হবে।
*বার কেন ঘটছে এমন দুর্ঘটনা*
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা এখন বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৬৪ জন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, রাতের বেলায় দূরপাল্লার বাস চালানো এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগই এর মূল কারণ।
সিলেট বিভাগীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “কোম্পানীগঞ্জ সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। কাজ শুরু হলে দুর্ঘটনা কমবে বলে আশা করি।”
*যা করণীয়*
১. রাত ১০টার পর দূরপাল্লার বাস চলাচল সীমিত করা
২. চালকদের বাধ্যতামূলক বিশ্রাম ও মাদক পরীক্ষা নিশ্চিত করা
৩. মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলো ও রিফ্লেক্টরের ব্যবস্থা করা
৪. ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো
সিলেটের এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সড়কে একটু অসতর্কতাই কেড়ে নিতে পারে শত প্রাণের হাসি। প্রশাসন, পরিবহন মালিক ও সাধারণ মানুষ—সবার সম্মিলিত সচেতনতাই পারে এই মৃত্যুমিছিল থামাতে।
---
নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। তুমি চাইলে আমি এই ঘটনার উপর ভিত্তি করে একটি শোকবার্তা বা সচেতনতামূলক পোস্টও লিখে দিতে পারি। লাগবে?

0 মন্তব্যসমূহ