*মেট্রো ট্রেনের খাবার গাড়িতে পচা খাবার: যাত্রীর ফেসবুক লাইভ ভাইরাল, স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ*
ট্রেন যাত্রায় খাবারের মান নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ নতুন নয়। তবে এবার এক যাত্রীর ফেসবুক লাইভ ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। মেট্রো ট্রেনের খাবার গাড়ি থেকে পচা খাবার পরিবেশনের অভিযোগ তুলে লাইভে আসেন এক যাত্রী। মুহূর্তেই সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে সম্প্রতি, যখন ট্রেনটি গন্তব্যের পথে ছিল।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, খাবার গাড়ি থেকে সরবরাহ করা খাবারের প্যাকেট খুলতেই দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। যাত্রী দাবি করেন, খাবারের রং ও গন্ধ দেখেই বোঝা যাচ্ছে তা বাসি ও পচা। ভিডিওতে তিনি অন্য যাত্রীদেরও দেখান, যারা একই অভিযোগ করছিলেন। এসময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যাত্রীদের নিরাপত্তা আর স্বাস্থ্যের দায়িত্ব কে নেবে? আমরা টাকা দিয়ে টিকিট কেটে কি এ ধরনের খাবার খাওয়ার জন্য?”
লাইভটি ছড়িয়ে পড়ার পর হাজারো মানুষ ভিডিওটি শেয়ার করেন। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই লিখেছেন, তারাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, “গত মাসেও একই ট্রেনে একই অবস্থা ছিল।” আবার কেউ সরাসরি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে ট্যাগ করে লিখেছেন, “আপনারা কি এগুলো দেখেন না? যাত্রীদের জীবন নিয়ে খেলছেন?”
যাত্রীদের অভিযোগ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি
যাত্রীদের প্রধান অভিযোগ, খাবার গাড়িতে খাবার সংরক্ষণের কোনো সঠিক ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘ সময় ধরে খাবার বাইরে রাখার ফলে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় খাবার দ্রুত পচে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। পচা খাবার খেলে ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া, বমি, পেটের ব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘ যাত্রায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য এটি আরও বিপজ্জনক।
একজন নিয়মিত যাত্রী বলেন, “ট্রেনে খাবারের দাম বাইরের চেয়ে বেশি। ভাবি অন্তত মান ভালো হবে। কিন্তু বারবার দেখছি খাবার ঠান্ডা, বাসি আর এখন তো পচাও বের হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে তো ট্রেনের খাবার খাওয়া বন্ধ করতে হবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
ফেসবুক লাইভ ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে রেলওয়ের খাবার সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ লিখেছেন, “কন্ট্রাক্ট কাদের হাতে, কীভাবে খাবার সরবরাহ হয়, সেটা প্রকাশ করা হোক।” আবার কেউ দাবি জানিয়েছেন, খাবার গাড়িগুলোতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিদর্শন করা হোক এবং যাত্রীদের অভিযোগ নেওয়ার জন্য হটলাইন চালু করা হোক।
অনেকেই রেলওয়ের অফিসিয়াল পেজকে ট্যাগ করে লিখেছেন, “আপনিও কি পচা খাবার পেয়েছেন? কমেন্টে জানান।” এভাবে কমেন্ট সেকশন পরিণত হয়েছে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা শেয়ারের প্ল্যাটফর্মে। অধিকাংশ মন্তব্যেই ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ পেয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব কী?
রেলওয়ে আইন অনুযায়ী, যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহ করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। খাবার গাড়ি পরিচালনার জন্য যেসব ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মনিটরিং থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে এই মনিটরিং কতটা হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
ভাইরাল ভিডিওর পর অনেকেই বলছেন, এখনই যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবার সংরক্ষণে কোল্ড চেইন মেইনটেইন করা, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার সরিয়ে ফেলা এবং খাবার গাড়ির পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি যাত্রীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি কার্যকর সিস্টেম থাকা দরকার।
যাত্রীদের করণীয়
এ ধরনের ঘটনার শিকার হলে যাত্রীরা সরাসরি রেলওয়ের অভিযোগ সেলে অভিযোগ জানাতে পারেন। ছবি, ভিডিও এবং বিল সংরক্ষণ করে রাখলে অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরলেও যেন অশ্লীল বা মিথ্যা তথ্য না ছড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
এদিকে ভাইরাল হওয়া লাইভ ভিডিওটি এখনো সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়। যাত্রীদের দাবি একটাই— নিরাপদ খাবার, জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা।
ট্রেন যাত্রা যেন স্বস্তির হয়, আতঙ্কের নয়। আর সেজন্য খাবারের মান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

0 মন্তব্যসমূহ