*পার্বতীপুরে ১২.৬০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ শুরু: যানজট ও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির আশা*
দিনাজপুরের পার্বতীপুর পৌর এলাকায় দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যা ও বর্ষাকালীন জলাবদ্ধতা নিরসনে ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকার দুটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। শনিবার [১৬ মে ২০২৬] সকালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর [এলজিইডি] এর বাস্তবায়নে প্রকল্প দুটির ফলক উন্মোচন করেন দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ.জে.এম. রেজওয়ানুল হক।
কোথায় হবে কাজ, কী থাকছে প্রকল্পে
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্প দুটির আওতায় পার্বতীপুর পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ দুটি রুটে পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
*প্রথম রুট:* সুন্দরীপাড়া মোড় থেকে শুরু হয়ে বৃন্দিপাড়া হয়ে বাইপাস পর্যন্ত।
*দ্বিতীয় রুট:* কালীবাড়ি মোড় থেকে নামাপাড়া ও পোড়াভিটা হয়ে মুসাহারপাড়া পর্যন্ত।
প্রতিটি রুটে নতুন পাকা সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি দুই পাশে আধুনিক ড্রেন ও পথচারীদের জন্য প্রশস্ত ফুটপাত তৈরি হবে। এলজিইডির প্রকৌশলীরা জানান, ড্রেনগুলো হবে কভার্ড সিস্টেমের, যাতে ময়লা জমে পানি চলাচলে বাধা না হয়। এছাড়া রাস্তার দুই পাশে এলইডি স্ট্রিট লাইট ও বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
কেন এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ
পার্বতীপুর পৌরসভা দিনাজপুরের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা। রেল জংশন হওয়ায় এখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াত। কিন্তু সুন্দরীপাড়া ও কালীবাড়ি এলাকার সড়কগুলো সরু, ভাঙাচোরা এবং বর্ষায় প্রায় ডুবে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, “২০ বছর ধরে এই রাস্তায় কাদা-পানি। রিকশা উল্টে যায়। এখন কাজ শুরু হওয়ায় আমরা আশাবাদী।”
পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানান, প্রকল্পগুলো শেষ হলে পৌর এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। জলাবদ্ধতা দূর হওয়ায় মশাবাহিত রোগের প্রকোপও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমপি যা বললেন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমপি রেজওয়ানুল হক বলেন, “পার্বতীপুরকে আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা সরকারের অঙ্গীকার। এই দুটি প্রকল্প শুধু রাস্তা-ড্রেন নয়, এটা মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে দেবে। যোগাযোগ সহজ হলে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে, শহরের সৌন্দর্যও ফিরে আসবে।”
তিনি আরও বলেন, কাজের মান নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে সময়মতো এবং গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনগণকেও কাজ তদারকিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
সময়সীমা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প দুটির কাজ ১২ মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ভাগ করে দায়িত্ব দেওয়া হবে। নিয়মিত মনিটরিংয়ের জন্য এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, “উন্নয়ন কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমরা সাপ্তাহিক অগ্রগতি রিপোর্ট নেব। কোনো অনিয়ম পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলর, ব্যবসায়ী নেতা, শিক্ষক ও সমাজকর্মীরা। সবাই দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। মুসাহারপাড়ার বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বলেন, “আমাদের বাচ্চারা বৃষ্টির দিনে স্কুলে যেতে পারত না। এখন রাস্তা হলে মেয়েরা নিরাপদে যেতে পারবে।”
পার্বতীপুরের উন্নয়ন ধারা
গত কয়েক বছরে পার্বতীপুর পৌর এলাকায় রেল স্টেশন আধুনিকীকরণ, নতুন বাজার নির্মাণ ও সড়ক বাতি স্থাপনের কাজ হয়েছে। ১২.৬০ কোটি টাকার এই প্রকল্পকে স্থানীয়রা সেই ধারাবাহিকতার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এমপি রেজওয়ানুল হক জানান, এরপর পৌরসভার অন্য ওয়ার্ডগুলোতেও পর্যায়ক্রমে ড্রেনেজ ও সড়ক উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। “লক্ষ্য একটাই—পার্বতীপুর হবে পরিষ্কার, সুন্দর ও নিরাপদ শহর,” বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী, পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

0 মন্তব্যসমূহ