*পার্বতীপুর স্টেশনে যাত্রী হয়রানি: প্ল্যাটফর্মে পানি নাই, টয়লেটে তালা*
দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলস্টেশনে প্রতিদিন হাজারো যাত্রীর ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বিশুদ্ধ পানির কোনো ব্যবস্থা নেই, আর যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য নির্মিত টয়লেটে ঝুলছে তালা। জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীদের দৌড়াতে হচ্ছে স্টেশনের বাইরে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, পার্বতীপুর জংশন স্টেশনের ১ ও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে থাকা টিউবওয়েলগুলো দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। যাত্রীদের পানির পিপাসা মেটাতে একমাত্র ভরসা স্টেশনের বাইরের দোকান। সেখানে বোতলজাত পানির দামও তুলনামূলক বেশি। ট্রেনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা যাত্রীরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচ করে পানি কিনছেন।
এর চেয়েও বড় সমস্যা টয়লেট নিয়ে। প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন দুটি পাবলিক টয়লেটে মাসখানেক ধরে তালা ঝুলছে। স্টেশন মাস্টারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, টয়লেটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার চলে যাওয়ার পর থেকে এ অবস্থা। ফলে নারী যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই লজ্জা ও অস্বস্তির কারণে টয়লেট ব্যবহার করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
ঢাকা থেকে আসা যাত্রী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “রাত ১২টায় ট্রেন লেট। পানি খাবো, সে উপায় নেই। টয়লেটেও তালা। বাচ্চা নিয়ে কী অবস্থায় পড়েছি বোঝাতে পারব না। স্টেশন কর্তৃপক্ষের এদিকে নজর দেওয়া উচিত।”
রংপুরগামী ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “মেয়েদের জন্য এটা খুবই বিব্রতকর। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে হয়। তখন ছিনতাই বা হয়রানির ভয় থাকে। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, আমরা আন্দোলনে যাব।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাত্রীরা জানান, পার্বতীপুর জংশন উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। এখান থেকে প্রতিদিন শত শত যাত্রী ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও দিনাজপুরগামী ট্রেনে যাতায়াত করেন। অথচ মৌলিক সুবিধা না থাকায় স্টেশনের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর স্টেশন মাস্টার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “টিউবওয়েলগুলো মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। টয়লেটের ঠিকাদারি বাতিল হওয়ায় নতুন করে দরপত্র প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।”
তবে যাত্রীদের অভিযোগ, এমন আশ্বাস তারা বহুবার শুনেছেন। বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আসেনি। স্টেশনে পর্যাপ্ত আলো, সিসিটিভি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবও রয়েছে। রাতে একা যাত্রা করা নারী যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাজেট সংকট ও জনবল ঘাটতির কারণে অনেক স্টেশনেই এমন সমস্যা হচ্ছে। তবে যাত্রী সেবা নিশ্চিত করা রেলওয়ের দায়িত্ব।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকে রেলমন্ত্রী, জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে ট্যাগ করে পোস্ট দিচ্ছেন। তাদের দাবি, দ্রুত পানির ব্যবস্থা করা হোক, টয়লেটের তালা খুলে দেওয়া হোক এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা হোক।
রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, যাত্রী সেবার মান বাড়াতে না পারলে রেলের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে। পার্বতীপুরের মতো জংশন স্টেশনে মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। না হলে যাত্রীরা বাস ও অন্যান্য যানবাহনের দিকে ঝুঁকবে, যা সরকারের রেল উন্নয়ন পরিকল্পনাকে ব্যাহত করবে।
যাত্রীদের প্রশ্ন, প্রতিদিন কোটি টাকার রাজস্ব আয় করা এই স্টেশনে কেন সাধারণ পানি আর টয়লেটের ব্যবস্থা থাকবে না? প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
আপনি কি কখনো পার্বতীপুর স্টেশনে এমন ভোগান্তিতে পড়েছেন? আপনার অভিজ্ঞতা কমেন্টে জানান।

0 মন্তব্যসমূহ