পার্বতীপুর পৌরসভায় ১২ কোটি টাকার সড়ক-ড্রেন প্রকল্পের উদ্বোধন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান



অনেকদিনের প্রতীক্ষার অবসান হলো পার্বতীপুর পৌরসভার সুন্দরীপাড়া, ছোটবৃত্তিপাড়া ও বড় বৃত্তিপাড়া, হাজির মোড় এলাকার বাসিন্দাদের। শনিবার দুপুরে পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় আরইউটিডিপি প্রকল্পের আওতায় নতুন সড়ক, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।


দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।


যা থাকছে প্রকল্পে  

আরইউটিডিপি প্রকল্পের আওতায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নির্মাণকাজ হবে। প্রথমটি হলো সুন্দরীপাড়া মোড় থেকে বৃত্তিপাড়া বাইপাস পর্যন্ত সড়ক, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ। দ্বিতীয়টি কালিবাড়ী মোড় থেকে নামাপাড়া হয়ে মশিয়ার পট্টি পর্যন্ত সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ।


প্রকল্পের আওতায় মোট ৩ হাজার ৯৭ মিটার দৈর্ঘ্যের রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এর সঙ্গে থাকবে ৩ হাজার ২৪১ মিটার ড্রেন এবং ১০২ মিটার ক্রসড্রেন। ড্রেনের ওপর নির্মাণ হবে আধুনিক ফুটপাত, যা পথচারীদের চলাচল সহজ করবে।


প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়েছে ১২ কোটি ৬০ লাখ ৬৩ হাজার ৫২.৬৯ টাকা। তবে দরপত্র প্রক্রিয়ায় চুক্তি মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১০ কোটি ৮৪ লাখ ৬ হাজার ৭০০ টাকা। কাজের মেয়াদ ধরা হয়েছে ১৫ মাস। ২০২৭ সালের ৩ আগস্টের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।


ঠিকাদার ও ব্যবস্থাপনা  

প্রকল্পের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড ও মোস্তাফিজুর রহমান। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হবে বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন পার্বতীপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদ্দাম হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রশাসন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী সিভিল সাব্বির আলম খান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী সিভিল সাখওয়াত হোসেন, পৌরকর আদায়কারী মেজবাহুল হকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া  

দীর্ঘদিন ধরে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও কাদামাটির কারণে ভোগান্তিতে ছিলেন সুন্দরীপাড়া ও বৃত্তিপাড়া এলাকার বাসিন্দারা। নতুন সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ হলে সেই সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছেন তারা।


স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, “বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যেত। স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়ে, বৃদ্ধরা চলাচল করতে পারতো না। এখন রাস্তা-ড্রেন হলে আমাদের অনেক উপকার হবে।”


আরেক বাসিন্দা রেহেনা বেগম বলেন, “ফুটপাত হলে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো নিরাপদ হবে। এটা আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।”


এমপির বক্তব্য  

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমপি রেজওয়ানুল হক বলেন, “পার্বতীপুরকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এই সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। কাজের গুণগত মান ঠিক রেখে দ্রুত শেষ করতে হবে।”


তিনি আরও বলেন, পৌরসভার অন্যান্য ওয়ার্ডেও ধাপে ধাপে উন্নয়ন কাজ হাতে নেওয়া হবে।


উন্নয়নের প্রত্যাশা  

পৌর প্রশাসক সাদ্দাম হোসেন জানান, আরইউটিডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বিনিয়োগ আসছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান বাড়বে।


তিনি বলেন, “ঠিকাদারকে কঠোরভাবে কাজের মান বজায় রাখতে বলা হয়েছে। কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।”


এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পার্বতীপুর পৌরসভার সুন্দরীপাড়া, বৃত্তিপাড়া ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি পৌরসভার সার্বিক চেহারায়ও আসবে পরিবর্তন।