*দিনাজপুরে কলেজ ছাত্রী ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি কুড়িগ্রাম থেকে গ্রেফতার করলো র‌্যাব-১৩*



দিনাজপুরের খানসামায় কোচিং সেন্টারের শিক্ষক পরিচয়ে এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি শাহিনুর ইসলাম শাহিনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুড়িগ্রামের উলিপুর থেকে তাকে আটক করা হয়।


বুধবার দুপুরে রংপুর র‌্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিডিয়া বিপ্লব কুমার গোস্বামী প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


গ্রেফতার শাহিনুর ইসলাম শাহিনের বয়স ২৭ বছর। তার বাড়ি দিনাজপুরের খানসামা থানার দক্ষিণ গোবিন্দপুর এলাকায়। তিনি স্থানীয়ভাবে একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতেন এবং সেখানে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াতেন।


*যেভাবে ঘটে ঘটনা*  

ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগ, কোচিং সেন্টারে পড়ানোর সুবাদে শিক্ষকের সঙ্গে পরিচয় হয় কলেজ পড়ুয়া ওই ছাত্রীর। অভিযোগ অনুযায়ী, শাহিনুর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে বিয়ের কথা বললে তিনি টালবাহানা শুরু করেন।


ঘটনা জানাজানি হলে গত ২৬ এপ্রিল ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে খানসামা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই শাহিনুর পলাতক ছিলেন।


*র‌্যাবের অভিযান*  

ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসামি কৌশলে আত্মগোপনে চলে যান। র‌্যাব-১৩ জানায়, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে আসামি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর এলাকায় অবস্থান করছেন।


এরপর ১ মে রাত সাড়ে ১টার দিকে কুড়িগ্রাম উলিপুর থানাধীন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরদার পাড়ায় মো. আশরাফুল ইসলামের বসতবাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাবের একটি দল। সেখান থেকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মো. শাহিনুর ইসলাম শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়।


র‌্যাবের কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, “দীর্ঘদিন ধরে আসামি আত্মগোপনে ছিলেন। গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালানো হয়।”


গ্রেফতারের পর তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট খানসামা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ এখন তাকে আদালতে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।


*স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া*  

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর খানসামা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্থানীয়রা বলছেন, কোচিং সেন্টারের শিক্ষক হিসেবে শাহিনুরের ওপর অভিভাবকদের আস্থা ছিল। কিন্তু এমন অভিযোগে সেই আস্থায় চিড় ধরেছে।


এক অভিভাবক বলেন, “শিক্ষক নামের কলঙ্ক সে। কোচিং সেন্টারগুলোতে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে এখন আমরা চিন্তিত। প্রশাসনের উচিত এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।”


*আইনি প্রক্রিয়া চলমান*  

খানসামা থানার পুলিশ জানায়, মামলার তদন্ত চলছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে। মামলার অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


র‌্যাব জানিয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভুক্তভোগীরা যাতে দ্রুত ন্যায়বিচার পান, সে বিষয়ে তারা কাজ করছে।


এই গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আসামিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলেও, ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে।