*ঢাকা মেডিকেলে শিশুমৃত্যু: দালচক্র নিয়ে আবারও প্রশ্নের মুখে সরকারি হাসপাতাল*





সা এক পরিবারের ট্র্যাজেডি*  

রংপুর থেকে উন্নত চিকিৎসার আশা নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসে একটি অসহায় পরিবার। অসুস্থ শিশুকে বাঁচাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তারা যখন ডিএমসিএইচ-এ পৌঁছায়, তখন তাদের একমাত্র সম্বল ছিল চিকিৎসকদের ওপর ভরসা।  


চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির অবস্থা আগে থেকেই সংকটাপন্ন ছিল। অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাকে। কিন্তু এর মধ্যেই ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।


*পরিবারের অভিযোগ: দালের হস্তক্ষেপে বিপত্তি*  

পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের ভেতরে সক্রিয় এক দাল তাদের বিভ্রান্ত করে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই ব্যক্তির প্ররোচনায় অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলা হয়। এর পরপরই শিশুটির মৃত্যু হয়।  


পরিবারের এই অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি হাসপাতালে কীভাবে এখনো দালচক্র এতটা সক্রিয় থাকে?


*হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্ত কমিটি*  

ঘটনার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে যদি দালচক্রের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তবে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।  


চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি হাসপাতালে আসার সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। তবে দালের হস্তক্ষেপের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।


*সরকারি হাসপাতালে দাল সিন্ডিকেট: পুরনো সমস্যা*  

এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা মেডিকেলসহ দেশের বড় বড় সরকারি হাসপাতালে দালচক্র সক্রিয়। তারা বাইরে থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের টার্গেট করে।  


কৌশল একই থাকে—রোগীকে বোঝানো হয় সরকারি হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা হবে না। এরপর নির্দিষ্ট বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নেওয়া হয়।  


এই চক্রের কারণে অনেক গরিব রোগী আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে যায়, আবার কখনো চিকিৎসায় বিলম্ব হওয়ায় প্রাণহানিও ঘটে।


*জনমত: দ্রুত বিচার ও দালমুক্ত হাসপাতালের দাবি*  

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। তাদের প্রধান দাবি তিনটি:  


১. *নিরপেক্ষ তদন্ত*: ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে।  

২. *দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি*: যদি প্রমাণিত হয় কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে রোগীর ক্ষতি করেছে, তবে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।  

৩. *দালমুক্ত হাসপাতাল*: হাসপাতালের প্রতিটি গেট ও করিডোর থেকে দালচক্রকে উচ্ছেদ করতে হবে। এর জন্য সিসিটিভি মনিটরিং ও নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি উঠেছে।  


অনেকে বলছেন, ক্লিনিক মালিকদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। কারণ দালচক্র টিকে থাকে তাদের সঙ্গে আঁতাতের কারণেই।


*শেষ কথা: ভরসার জায়গাটা বাঁচাতে হবে*  

গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের শেষ ভরসা সরকারি হাসপাতাল। এখানে যদি দালচক্রের দৌরাত্ম্য চলতে থাকে, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?  


ঢাকা মেডিকেলের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, শুধু চিকিৎসা সেবা বাড়ালেই হবে না। হাসপাতালের ভেতরের সিস্টেম পরিষ্কার করাও জরুরি।  


তদন্ত দ্রুত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক। এটাই এখন সময়ের দাবি। নাহলে রংপুর থেকে আসা সেই পরিবারের মতো আরও অনেক পরিবারকে একই পরিণতির শিকার হতে হবে।


#DhakaMedical #HospitalBroker #HealthcareBangladesh #JusticeForChild #Rangpur #PatientRights #HealthSystem


---


*