*বিশ্বকাপের আগে ভিন্ন কৌশল নিচ্ছেন স্ক্যালোনি, বড় স্কোয়াডের পরিকল্পনা আর্জেন্টিনার*



ফুটবল বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। ১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় পর্দা উঠবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, একে একে চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করছেন কোচরা। এরই মধ্যে চমক দিয়েছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সোমবার মাঝরাতে ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন তিনি। দীর্ঘ আলোচনার পর নেইমার জুনিয়রও জায়গা পেয়েছেন চূড়ান্ত দলে।


পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দল ঘোষণা করলেও এখনো অপেক্ষায় রেখেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে শিগগিরই। কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি এবার একটু ভিন্ন পথে হাঁটতে চান। ২৬ জনের সীমায় আটকে না থেকে আরও বড় স্কোয়াড নিয়ে প্রস্তুতি সারতে চান তিনি।


টিওয়াসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ক্যালোনি ইতিমধ্যেই প্রাথমিক স্কোয়াড সাজিয়ে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে জমা দিয়েছেন। সেই তালিকা থেকেই বাছাই করা হবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ২৬ জন। প্রাথমিক দলে রয়েছেন ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে স্ক্যালোনির মূল পরিকল্পনা হলো, চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে সম্ভাব্য ইনজুরি ও অন্যান্য অনিশ্চয়তা মাথায় রেখে অতিরিক্ত কিছু খেলোয়াড়কে সঙ্গে রাখা।


আর্জেন্টিনার নিয়ম অনুযায়ী ফিফাকে সর্বোচ্চ ২৬ জনের নাম জমা দিতে হয়। কিন্তু স্ক্যালোনি চান, মে মাসের শেষ সপ্তাহে এজেইজায় প্রাথমিকভাবে ২৬ জনের বেশি খেলোয়াড়কে ডেকে অনুশীলন শুরু করতে। এরপর দলটি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ট্রেনিং ক্যাম্প করবে। চূড়ান্ত স্কোয়াড জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ মে।


এই কৌশলের পেছনে রয়েছে ২০২ কাতার বিশ্বকাপের তিক্ত অভিজ্ঞতা। সেবার টুর্নামেন্টের ঠিক আগে ইনজুরিতে ছিটকে পড়েন নিকোলাস গঞ্জালেস ও হোয়াকুইন কোরেয়া। বিকল্প হিসেবে ছুটিতে থাকা অ্যানহেল কোরেয়া ও থিয়াগো আলমাদাকে দ্রুত দোহায় উড়িয়ে আনতে হয়েছিল। এবার সেই ঝুঁকি নিতে চান না স্ক্যালোনি। তাই হাতে বিকল্প রেখে দিতে চান তিনি।


স্ক্যালোনির এই পরিকল্পনার কারণে চূড়ান্ত দলে কিছু চমকও দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে উইঙ্গার পজিশনে নজর রয়েছে তার। প্রাথমিক তালিকায় থাকা এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া ও মাতিয়াস সুলে দুজনই বিবেচনায় আছেন। 


অ্যাস্টন ভিলার হয়ে চলতি মৌসুমে ইউরোপা লিগের ফাইনালে খেলা বুয়েন্দিয়াকে সর্বশেষ আর্জেন্টিনা দলে ডাকা হয়েছিল ২০২৫ সালের নভেম্বরে, অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে। অন্যদিকে এএস রোমার ফরোয়ার্ড মাতিয়াস সুলের এখনো আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক হয়নি। তবে কয়েকবার স্কোয়াডে থাকায় কোচের আস্থা রয়েছে তার ওপর।


বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ৬ জুন টেক্সাসের কাইল ফিল্ডে প্রতিপক্ষ হন্ডুরাস। এরপর ৯ জুন আলাবামার জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে খেলবে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে। এই দুই ম্যাচে স্ক্যালোনি তার কৌশল ও খেলোয়াড়দের ফর্ম যাচাই করে নেবেন।


২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন। উদ্বোধনী ম্যাচে গ্রুপ ‘এ’-তে মুখোমুখি হবে সহ-স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ভেন্যু মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও অ্যাজতেকা। ফাইনাল হবে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।


শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আর্জেন্টিনা পড়েছে গ্রুপ ‘জে’-তে। তাদের সঙ্গী আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। আলবিসেলেস্তেদের প্রথম ম্যাচ ১৬ জুন, কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে। 


স্ক্যালোনি আগেই বলেছেন, মেসি থাকবেন দলের কেন্দ্রে। কিন্তু তার পাশাপাশি তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মিশ্রণে ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়তে চান তিনি। ইনজুরির ধাক্কা সামলে ২০২ সালের মতো আবারও ছন্দ ধরে রাখাই লক্ষ্য। 


ব্রাজিল ইতিমধ্যেই দল ঘোষণা করে চাপ বাড়িয়েছে। নেইমার ফিরে আসায় সেলেসাও শিবিরে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা চাইছে নীরবে প্রস্তুতি সেরে সঠিক সময়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে। স্ক্যালোনির এই ভিন্ন পরিকল্পনা কতটা কাজে দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষায় আছে মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে এমন টুর্নামেন্টের জন্য। ২০২ সালে কাতারে শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন মেসি-ডি মারিয়ারা। এবার লক্ষ্য শিরোপা ধরে রাখা। আর সেজন্য স্ক্যালোনি কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। 


প্রাথমিক স্কোয়াডে কারা আছেন, তা পুরোটা প্রকাশ না করলেও জানা গেছে, গোলরক্ষক, ডিফেন্ডার, মিডফিল্ডার ও ফরোয়ার্ড মিলিয়ে প্রায় ৩২-৩৪ জনকে ডাকা হতে পারে প্রাথমিক ক্যাম্পে। সেখান থেকে পারফরম্যান্স, ফিটনেস ও কৌশলগত প্রয়োজনের ভিত্তিতে বাছাই হবে চূড়ান্ত ২৬ জন।


আর্জেন্টিনার ফুটবল সমর্থকরা এখন তাকিয়ে আছেন ৩০ মের দিকে। সেদিনই জানা যাবে, মেসির সঙ্গী কারা হবেন বিশ্বকাপ মিশনে। স্ক্যালোনির পরিকল্পনা সফল হলে, ইনজুরির ধাক্কা সামলেও আর্জেন্টিনা থাকবে শিরোপার অন্যতম দাবিদার।


বিশ্বকাপের উত্তেজনা এখন চরমে। ব্রাজিল, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানির পাশাপাশি আর্জেন্টিনাও প্রস্তুত নিজেদের সেরাটা দিতে। ১ জুন থেকে শুরু হবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় উৎসব। আর তার আগে স্ক্যালোনির এই কৌশলগত চাল আর্জেন্টিনাকে কতদূর এগিয়ে নিয়ে যায়, সেটাই হবে বড় প্রশ্ন।